প্রিন্ট এর তারিখঃ ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ AM ||
প্রকাশের তারিখঃ ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪১ PM
স্বপ্ন বুনে স্বাবলম্বিতার পথে: হস্তশিল্পে নারী উদ্যোক্তা তপতী দেবনাথ — তপতী দেবনাথ
মিলন বিশ্বাস
প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছু স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, অধ্যবসায়, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা। আমি একজন নারী এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। সংসারের দায়িত্ব পালন করেও নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার যে সংগ্রাম, সেই পথেই আমার আজকের যাত্রা। আমার জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ সালে, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার চুলকাটি ঘনশ্যামপুর গ্রামে। বাবা মনিভূষণ দেবনাথ এবং মা মিনতি রানী দেবনাথ। চুলকাটি ঘনশ্যামপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সুন্দরবন মহিলা ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর, ২০০৭ সালে আমার বিয়ে হয়।বিয়ের আগে থেকেই জানতাম চাকরি করার সুযোগ হবে না। তাই ভাবতে শুরু করি ঘরে বসেই কীভাবে নিজের একটি পরিচয় গড়ে তোলা যায়। সন্তান একটু বড় হওয়ার পর ছোট পরিসরে সেলাইয়ের কাজ শুরু করি। ধীরে ধীরে অর্ডার আসতে থাকে, আত্মবিশ্বাসও বাড়তে থাকে। করোনা মহামারির সময় এক শুভাকাঙ্ক্ষী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমার কাজ দেখে উৎসাহ দেন এবং হাতের কাজের কিছু অর্ডার দেন। সেখান থেকেই নতুনভাবে শুরু হয় আমার হস্তশিল্পের পথচলা। তখনই উপলব্ধি করি, শুধু নিজের জন্য নয় গ্রামের সেই নারীদের জন্যও কিছু করা দরকার, যারা কাজ করতে চান কিন্তু সুযোগের অভাবে পিছিয়ে আছেন। ইচ্ছা করলে বাজার থেকে পণ্য কিনে বিক্রি করে বেশি লাভ করা যেত। কিন্তু আমি সে পথ বেছে নিইনি। আমি চাই নারীরা নিজের হাতে কাজ শিখুক, দক্ষ হয়ে উঠুক এবং নিজের আয়ে স্বাবলম্বী হোক। তাই আমি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ফ্যাশন ডিজাইন ও হাতের কাজ শেখাই এবং কাজের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করি। বর্তমানে আমি হাতের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ব্লাউজ পিস, টু-পিস, থ্রি-পিস, ওয়ান-পিস, সালোয়ার, প্লাজো, শিশুদের পোশাক, ফতুয়া, বেবি নকশিকাঁথা, বড় নকশিকাঁথা, ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ড প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্টসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প। এছাড়াও কুশিকাঁটার কাজেও আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার উদ্যোক্তা পেজ ‘বর্ণ তপু বুটিক্স’-এর মাধ্যমে আমি আমার পণ্য দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার স্বপ্ন একদিন একটি নিজস্ব কারখানা গড়ে তুলব, যেখানে আমার তৈরি পণ্য উৎপাদিত হবে এবং অনেক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, আমার আরেকটি বড় স্বপ্ন রয়েছে। আমি অসহায়, এতিম এবং অবহেলিত বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য একটি আশ্রয়স্থল গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠা করারও ইচ্ছা আছে, যেখানে নতুন প্রজন্ম শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চায় নিজেদের বিকশিত করতে পারবে।আমি বিশ্বাস করি, অর্থের চেয়েও মানুষের প্রয়োজন আন্তরিক উৎসাহ, সঠিক পরামর্শ এবং মনোবল। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়ান, তবে আমাদের সমাজে আরও অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।আমি একজন নারী। তাই সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালন করেই অবশিষ্ট সময়টুকু শিল্পসাধনা ও উদ্যোক্তা জীবনে ব্যয় করি। বাবা-মাকে হারিয়েছি, কিন্তু তাঁদের আশীর্বাদ, গুরুজনদের দোয়া এবং সবার ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে চলার সাহস পাই।
আমার ছোট ছোট স্বপ্নগুলো একদিন বাস্তবে রূপ নিক এই প্রার্থনাই করি। আপনাদের সবার শুভকামনা, দোয়া ও সহযোগিতা আমার পথচলার শক্তি হয়ে থাকুক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ খবীরুদ্দীন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রাজু আহমেদ খান শহীদ ।
আইন-বিষক সম্পাদকঃ এডঃ সুদীপন মোহাম্মাদ।
সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ নৈহাটী, রূপসা, খুলনা। মোবাইলঃ ০১৭৩২৫৯২৪৭১